পরিবেশ

ক্লিক গ্রীন

সূচনা

বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের মতে বিশ্বকে বাসযোগ্য রাখার প্রধান চ্যালেঞ্জে এর জলবায়ু পরিবর্তন। পৃথিবীর পরিবেশ, অধিবাসী এবং অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। যদিও পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশর ভুমিকা সবচেয়ে কম তবুও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের যে সমস্ত রাষ্ট্র সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশে তার অন্যতম। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে একটি দায়িত্বশীল কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণফোন পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে “স্টে গ্রীন, স্টে ক্লোজ” (সবুজের থাকুন, কাছে থাকুন) নামক প্রচারাভিযান চালু করেছে। ‘ক্লিক গ্রীণ’ এই প্রচারাভিযানের অধীনে গ্রামীণফোনের আভ্যন্তরীণ প্রচারণা কার্যক্রম।

উদ্দেশ্য

ক্লিক গ্রীনের উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীনফোণের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে সক্রিয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে তাদের উৎসাহিত করা। সেই সাথে গ্রামীনফোণের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবেশ বান্ধব হবার লক্ষে চিন্তা করতে, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে এবং এই বিষয়ে সক্রিয় হতে উৎসাহিত করা এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য । এই প্রচারণার মাধ্যমে এই উপলদ্ধিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে যে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে মানুষের মনোভাব পরিবর্তন সবচেয়ে আগে জরুরী। সর্বোপরি আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য এবং বৈচিত্র্যের বিষয়টি তুলে ধরার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে । আমরা যদি আমাদের পৃথিবীকে রক্ষা না করি তবে কি হারাতে বসব সেই বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে এই উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের মেয়াদকাল

যথাক্রমে ২০০৯ এবং জুন ২০১১ থেকে আগস্ট ২০১১ পর্যন্ত।

প্রকল্পের বর্ণনা

গ্রামীনফোণের সম্মানিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশ বান্ধব জীবনযাপনে তাদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিচারকদের একটি প্যানেল জমা পড়া ছবিগুলো থেকে সেরা ছবিগুলোকে নির্বাচিত করবে এবং শ্রেষ্ঠ তিনটি ছবি গ্রামীণফোনের হেডঅফিস জিপি হাউসে প্রদর্শিত হবে।

প্রকল্পের অর্জন

প্রতিষ্ঠানজুড়ে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ বিষয়ে আরো বেশি করে দায়বদ্ধ ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিতকরণ।

কমিউনিটি পাওয়ার প্রোজেক্ট - সামাজিক ব্যবসার আদলে

সূচনা

বাংলাদেশের ১৪ কোটি মানুষের মধ্যে ৯ কোটি মানুষ সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত। অবশিষ্ট ৫ কোটি মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ পায় বটে কিন্ত নিয়মিত এবং গুণগত মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ একেবারেই তাদের নাগালের বাইরে। এই সমস্ত গৃহস্থালির একটা বিশাল অংশ গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করে যারা জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রীডের আওতার বাইরে। এর ফলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে যার প্রভাব বাক্তিগত পর্যায়েও বিদ্যমান।

জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রীডের আওতার বাইরে এই সব এলাকায় মোবাইল কোম্পানীগুলো ক্রমবর্ধমান হারে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রাদি বসাতে তৎপর যেমন বায়ু চালিত টার্বাইন ও সোলার প্যানেল যাতে করে তাদের বেস ষ্টেশনগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ বেস স্টেশনের বাইরেও স্থানীয় জনগণকে সরবরাহ করার সুযোগ রয়েছে।

উদ্দেশ্য

কমিউনিটি পাওয়ার প্রোজেক্টের অধীনে বাংলাদেশে গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ ও স্বল্প মূল্যের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ নির্ভর মিনি-গ্রিড অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে পরীক্ষামূলকভাবে একটি নির্দিষ্ট বা একটি গুচ্ছ গ্রামে মিনি-গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহে করার পরিকল্পনা রয়েছে। সামাজিক ব্যবসার আদলে এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে যেখানে একটি এন.জি.ও./ভি.ই.সি. এর ব্যবস্থাপনা, সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে যাতে করে একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং গ্রামীণফোন থেকে কোন আর্থিক সহায়তা নেবার প্রয়োজন না পড়ে। এই প্রকল্প স্থানীয় জনগনের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করবে এবং সেই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অবদান রাখবে।

প্রকল্পের মেয়াদকাল

২০১১ সাল থেকে অনিদৃষ্টকালের জন্য।

প্রকল্পের বর্ণনা

গ্রামীণফোন এবং নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে কমিউনিটি পাওয়ার প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছে যার মাধ্যমে তাপবিদ্যুৎ কেদ্র স্থাপন করা হবে যার মাধ্যমে গ্রামীণফোনের বেসস্টেশন এবং একই সাথে স্থানীয় গৃহস্থালী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। গ্রামীণফোন এই মডেলের প্রধান পরিচালক যার বেস স্টেশনগুলোতে সর্বদাই বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন পরে। অসলো বিশ্ববিদ্যালয় এই মিনি-গ্রিড সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগের জন্য অর্থ সহায়তা প্রদান করবে। গ্রামীণফোনের বেসস্টেশনগুলোতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের চাহিদা মডেলটিকে বাঁচিয়ে রাখবে।

প্রকল্পের অর্জন:

এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত ১৪০টি বসতবাড়িতে এবং দিনের বেলায় গ্রামীণফোনের একটি কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

গ্রামীণফোন ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম

গ্রামীণফোন সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ কোম্পানী হিসেবে সুব্যবস্থিত কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে যাতে করে এর ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে পরিবেশের উপর কোন বিরুপ প্রভাব পরার সম্ভাবনা থাকলে যখনই সম্ভব যেন তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এই বিরুপ প্রভাব লাঘবকরণ নিশ্চিত করা যায়। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পরিবেশ বান্ধব কোম্পানী হিসেবে গড়ে ওঠা এবং এই বিষয়ে সমাজ ও জনমানুষের মাঝে তৎপরতা সৃষ্টির দর্শনকে সামনে রেখে ২০০৮ সালের শুরুতে গ্রামীণফোনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু হয়।

গ্রামীণফোনের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রামের উদ্দেশ্যসমূহ:

  • ২০১৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নেতৃস্থানীয় কোর্পোরেট কোম্পানীতে পরিণত হওয়া।
  • ২০১২ সালের মধ্যে ২০০৮ সালের তুলনায় কার্বন নিঃসরণ ১৫ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং ২০১৫ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড কমিয়ে আনা।
  • ‘সবুজ কোম্পানী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা।
  • পরিবেশ বিষয়ে গ্রামীণফোনর কর্মচারীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে হাতে নেয়া কর্মসূচীতে তাদের যুক্ত করা, এবং এই বিষয়ে জনমত তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করা।
  • সমাজ ও জনমানুষের মাঝে এই বিষয়ে তৎপরতা সৃষ্টি করা।

পিডিএফ ফরম্যাট এ এনভাইরনমেনট পলিসি ডাউনলোড করুন

 

শেয়ার